গাজীপুরের কালিয়াকৈরে জব্দ করা ঘোড়া গোপনে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাসির উদ্দিনকে অবশেষে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গত ২ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) বিকেলে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন এই প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সম্প্রতি রাজধানীতে খাসির মাংসের নামে ঘোড়ার মাংস সরবরাহের যে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে, তার রেশ কাটতে না কাটতেই খোদ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জব্দ করা ঘোড়া সরিয়ে ফেলার এই গুরুতর অভিযোগ উঠল।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৭ মার্চ কালিয়াকৈরের খলিশাজানি এলাকার একটি গভীর জঙ্গল থেকে জবাইয়ের প্রস্তুতিকালে ৯টি ঘোড়া উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারের পর ঘোড়াগুলো থানা হেফাজতে রাখা হয়। এর মধ্যে একটি ঘোড়া অসুস্থ হয়ে মারা গেলেও বাকি ৮টি ঘোড়া নিয়ে শুরু হয় নাটকীয়তা।
অভিযোগ উঠেছে, গত ৩১ মার্চ (রোববার) ভোরে ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে গোপনে এক ব্যক্তির কাছে অবশিষ্ট ৮টি ঘোড়া বিক্রি করে দেন। সোমবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং ঘোড়াগুলো উদ্ধার করে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ফিরিয়ে আনে। পরবর্তীতে গত ১ এপ্রিল ঘোড়াগুলো প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এএইচএম ফখরুল হোসাইন জানান, ঘোড়াগুলো যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নিলাম করা হয়েছে। আগের ঘটনা নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনের জন্যই এই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে বিতর্কিত ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন দাবি করেছেন, “ঘোড়াগুলো বিক্রি করা হয়নি, বরং সাময়িকভাবে একজনের জিম্মায় রাখা হয়েছিল।” তবে তার এই দাবি ধোপে টেকেনি। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা: গাজীপুর থেকে ঢাকার রেস্টুরেন্টে ঘোড়ার মাংস সরবরাহের যে সিন্ডিকেট কাজ করছে, এই ঘটনার সাথে তাদের কোনো যোগসূত্র আছে কি না—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
Leave a Reply